হাঁপানি রোগীর খাবার

u37476_823613_450042

হাঁপানি রোগীর খাবার-দাবারে সতর্ক থাকতে হয়। সাধারণ পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে গ্রহণ করতে হয়। হাঁপানির সাথে অ্যালার্জির সম্পর্ক থাকায় যেসব খাবারে রোগীর অ্যালার্জির সম্পর্ক থাকায় যেসব খাবারে রোগীর অ্যালার্জি আছে খাবার তালিকা থেকে সেগুলো বাদ দেয়া উচিত। কী কী খাবার থেকে অ্যালার্জি বা হাঁপানি হতে পারে তার তালিকা অনেক দীর্ঘ। যেমন- ডিম, চিংড়ি মাছ ও গরুর গোশত থেকে অ্যালার্জি হতে পারে এ তথ্যবহুল প্রচলিত। এ ছাড়া যেসব খাবারে অ্যালার্জি হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে ইলিশ মাছ, বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, কলা, পুঁইশাক, ডাল, গমের তৈরি খাবার, চাল, কমলালেবু, আপেল, আঙুর, তরমুজ, শসা, কাজু বাদাম, চীনা বাদাম, সজিনা ডাটা, মুলা, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, ওলকপি, চকোলেট, গুড়, মধু, দুধ ও দুধ থেকে তৈরি খাবার প্রভৃতি। এখানে মনে রাখা দরকার যে, সব খাদ্য থেকে সবার অ্যালার্জি নাও হতে পারে। ব্যক্তি ভিন্নতায় বিভিন্ন খাদ্যে বিভিন্নজনের অ্যালার্জি হতে পারে। একই ধরনের খাবারে যে সবারই অ্যালার্জি হবে এমন কোনো কথা নেই। যেসব খাবারে অ্যালার্জি আছে সেসব খাবার খেলেই হাঁপানি রোগীর কষ্ট বাড়ে। তাই হাঁপানি আক্রান্ত রোগীরা সহজেই বুঝতে পারে তার কোন কোন খাবারে অ্যালার্জি আছে। তাই যেসব খাবারে যার অ্যালার্জি আছে সেসব খাবার সে এড়িয়ে চললে তার কষ্ট কম হবে।

হাঁপানি রোগীর খাবার হবে পুষ্টকর, সুষম এবং হালকা ধরনের। লাল, হলুদ ফল, শাকসবজি হাঁপানির ভালো খাবার। কারণ এতে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা ফুসফুসকে শক্তিশালী করে। ভিটামিন সি ও ই-সমৃদ্ধ খাবার খেলে ফুসফুস ভালো থাকে। এ জন্য সবুজ ফল ও শাকসবজি যেমন ভিটামিন সি পাওয়া যায়, তেমনি ভিটামিন ই পাওয়া যাবে মারজারিন, সয়াবিন, অলিভ অয়েল ইত্যাদিতে। হাঁপানি রোগীদের অতিরিক্ত মসলা, ভাজাপোড়া, চবিযুক্ত খাবার কিংবা এসিড জাতীয় খাবার, যা দ্বারা তার কষ্ট বাড়ে তা পরিহার করা।
যে শিশুদের হাঁপানি রয়েছে তাদের গরুর দুধ, গুঁড়া দুধ না খাওয়ানোই ভালো। শিশুদের ক্যালরির চাহিদা বেশি। তাই তাদের বেশি পরিমাণে শর্করা ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন। এ জন্য শিশুর খাবারের ব্যাপারে মাকেই বেশি যত্নবান হতে হয়। শিশু যাতে বেশি রোগা হয়ে না যায় বা বেশি মোটা হয়ে না যায় সে ব্যাপারে মাকে খেয়াল রাখতে হবে।
খাবারের সময়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ঠিক সময় নিয়মিত খাবার গ্রহণ করতে হবে। রাতের খাবার পেটভরে না খাওয়াই ভালো। ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেতে হবে। রোগীরা রাতে পেট ভরে খাওয়ার ফলে রাতে শ্বাসকষ্ট বাড়ে। বিশেষভাবে আমরা যারা ভাত খেতে অভ্যস্ত তাদের মনে রাখতে হবে যে, ভাতের শর্করা পাকস্থলিতে গ্যাসের সৃষ্টি করে। ফলে রোগীর শ্বাসকষ্ট বাড়ে। তাই রাতের খাবার হালকা হওয়া উচিত। একই কারণে রাতে মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। হাঁপানির রোগীরা রাতে তেল ও ঘিয়ে ভাজা মুখরোচক খাবার খাবেন না। এ ছাড়া রাতে চর্বিযুক্ত গুরুপাক খাবারও বর্জন করতে হবে।
খাবার-দাবারে সংযত হলে হাঁপানি রোগীর কষ্ট অনেক কম হবে। হাঁপানির রোগীদের কঠিনভাবে ধূমপান বন্ধ করতে হবে এবং ধূমপানের পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে। তা ছাড়া তামাক, জর্দা, গুটখা, খৈনি, পান মসলা প্রভৃতি খাবারও হাঁপানি রোগীর জন্য নিষিদ্ধ। কৃত্রিম রঙ মিশানো খাবারও তাদের জন্য নিষিদ্ধ। তা ছাড়া প্যাকেটজাত খাবার যাতে প্রিজারভেটিভ দেয়া থাকে, সেসব খাবারও পরিহার করতে হবে। ওয়াইন, বিয়ার, হুইস্কি, জিনজাতীয় অ্যালকোহল, জ্যাম, জেলি, সস খাওয়া বাদ দিতে হবে। আচার ও চাটনি না খাওয়াই ভালো। কারণ এগুলো কাশি বাড়িয়ে দেয়।
কোল্ড ড্রিঙ্কস, ফ্রিজে রাখা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। চকোলেট, স্যালাড, পটেটো, চিপস, নোনতা বিস্কুট খাওয়া নিষেধ। মোল্ড ও ঈস্ট যেসব খাবারের ব্যবহার করা হয়, যেমন পাউরুটি, কেক, ভিনিগার প্রভৃতি খাবার হাঁপানি রোগীদের বর্জন করতে হয়। কারণ এগুলো খেলে অ্যালার্জি হতে পারে। অতিরিক্ত চা, কফি হাঁপানি রোগীদের না খাওয়াই ভালো।
খাবার নিয়ন্ত্রণে হাঁপানি রোগীর হাঁপানি সেরে যাবে এমন নয়, বরং হাঁপানির কষ্ট কমানোর জন্য খাবার নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

প্রভাষক.ডাঃ এস.জামান পলাশ
জামান হোমিও হল
01711-943435 //01670908547
চাঁদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
ওয়েব সাইট –www.zamanhomeo.com

( প্রতি মুহুর্তের চিকিৎসা বিষয়ক খবর গুলো নিয়মিত পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিন ) https://www.facebook.com/ZamanHomeoHall

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *