হোমিওপ্যাথি ঔষধ ও ডায়াবেটিস চিকিৎসা এর সফল গবেষণা।

গবেষণা ও বাংলাদেশ : হোমিওপ্যাথি ঔষধ ও ডায়াবেটিস চিকিৎসা এর সফল গবেষণা। [Research of Bangladesh: Diabetes Treatment & Homoeopathy Medicine]

গবেষণা চিকিৎসা বিজ্ঞানের চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে সেভাবে গবেষণা হচ্ছেনা। ফলে পিছিয়ে পড়ছে। তা কাম্য নয়।

খাদ্যশস্যের মাধ্যমে বা খাদ্যে যে বিষ বা Poison ব্যবহার করা হচ্ছে এগুলো সকল জনগোষ্ঠী খাবার হিসাবে প্রতিনিয়ত খাচ্ছে। অনেক রাসায়নিক উপাদান, অনেক এ্যালোপ্যাথি ঔষধ মানুষের Immune System নষ্ট করে দিচ্ছে। তার ফলে প্রচলিত যে ঔষধ গুলো আছে, মানবদেহে তার কার্যক্ষমতা অনেকাংশে কমে গেছে বা বিলম্ব ঘটে। এজন্য নিয়মিত গবেষণার প্রয়োজন।
বিভিন্ন দেশ, মহাদেশ, পরিবর্তনশীল জলবায়ু, আবহাওয়া, খাদ্যাভ্যাস প্রভৃতি বিবেচনা করে সরকারী বা বেসরকারী সহায়তায় বা আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথি সংগঠন গুলোর সহায়তায় বিভি্ন মহাদেশ ভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নতুন ও পুরাতন ঔষধ নতুন করে মহাদেশ ভিত্তিক প্রুভিং সহ অন্যান্য গবেষণা করা প্রয়োজন। সে মোতাবেক মহাদেশ ভিত্তিক হোমিওপ্যাথি মেটেরিয়া মেডিকা পুস্তক তৈরি করা। মানবদেহের অর্গান ভিত্তিক চিত্র (এনাটমি ও ফিজিওলজি) সহ ক্রিয়াস্থল, ঔষধের শক্তি ও মাত্রা, প্রয়োগ বিধি, সেবন বিধি সহ অন্যান্য বিষয় সমূহ উল্লেখ করে মহাদেশ ভিত্তিক হোমিওপ্যাথি প্র্যাকটিস অব মেডিসিন বই লেখা দরকার। তবেই এগিয়ে যাবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপযোগী অাধুনিক এবং গতিশীল হোমিওপ্যাথি। আর সময় নষ্ট না করে বা অবহেলা বা অবজ্ঞা না করে সকলে এ বিষয়ে এগিয়ে আসুন।

গবেষণার উদ্দেশ্যঃ

বিশ্বব্যাপি অ্যালোপ্যাথি ঔষধ শিল্প বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে শুধুমাত্র ডায়াবেটিস ঔষধ বিক্রয় ব্যাপারে। অ্যালোপ্যাথি ফার্মেসি গুলো বড় মাপের গ্রাহক হলো ডায়াবেটিস রোগী। এই ডায়াবেটিস গবেষণার নামে বিশ্বব্যাপি কত ডলারের পর ডলার ব্যয় করছে। কোন কার্যকর ঔষধ কি আবিস্কার হয়েছে? শুধু গবেষণা চলছেই। প্রতিদিন শরীরে সিরিঞ্জ এর সূঁচ বিধাতে হয়। কি কষ্ট রোগীদের হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। বলছে Pancreas (অগ্নাশয়) ইনসুলিন হরমন বিপাকক্রিয়া বা বিশৃঙ্খলার কারণে ডায়াবেটিস। তাহলে কেন কার্যকর ঔষধ এখনও বের হচ্ছেনা? প্রতিদিন রোগীদের কেন ২/৩ বেলা শরীরে ইনজেকশনের সূঁচ বিদ্ধ করতে হবে? আর কত শতাব্দী অ্যালোপ্যাথিতে গবেষণার নামে জনগণের অর্থের টাকা বিশ্বব্যাপি লুটপাট চলবে? ডায়াবেটিস ঔষধের নামে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার টাকার অ্যালোপ্যাথি ঔষধ বিক্রয়ের ব্যবসা চলবে? ডায়াবেটিস রোগীরা তা হতে মুক্তি চায়। ডায়াবেটিস ব্যাধির মুক্তির পথ দেখাতে পারে একমাত্র হোমিওপ্যাথি।

১। সিনিয়র গবেষক ডা. প্রমিত কুমার মন্ডল (চিকিৎসক, লোকনাথ হোমিওপ্যাথি। বগুড়া, বাংলাদেশ) ও ২। ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) (চিকিৎসক, ডা. আব্দুস সালাম হোমিওপ্যাথি হেলথ কেয়ার ও কলামিস্ট। বগুড়া, বাংলাদেশ) উভয়ের ব্যক্তিগত যৌথ উদ্যোগে তাদের যৌথ গবেষণালম্ব তথ্য বাংলাদেশের আবহাওয়া, পরিবর্তনশীল জলবায়ু, জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশের উপযোগী “হোমিওপ্যাথি ঔষধ ও ডায়াবেটিস চিকিৎসা” এর গবেষণা করেছেন। যার ফলে বাংলাদেশ সহ অনেক দেশ এর সুফল পাবে।
কেহ মনে করলে নতুন এ বিষয়ে আরও গবেষণা করতে পারেন। হোমিওপ্যাথিকে এগিয়ে নিন।

গবেষণাঃ
“Research of Bangladesh:
Diabetes Treatment & Homoeopathy Medicine”

ডায়াবেটিসঃ

ডায়াবেটিস (Diabetes) একটি বিপাকজনিত রোগ। আমাদের শরীরে ইনস্যুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারণে Pancreas (অগ্নাশয়) বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে। এই রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেড়ে যায়। সুস্থ লোকের রক্তে প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৫.৬ মিলি মোলের কম এবং খাবার দুই ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলি মোলের কম থাকে। অভুক্ত অবস্থায় রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.১ মিলি মোলের বেশি হলে অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলি মোলের বেশি হলে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।

ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স কীঃ

ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয়। কিন্তু যা সঠিকভাবে কাজ করে না অর্থাৎ শরীরে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা সঠিকভাবে কমাতে পারে না। কোনো ব্যক্তির শরীরে ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স হলে পরবর্তীতে তার ডায়াবেটিস দেখা দেয়, সাধারণত টাইপ-২ ডায়াবেটিস।
ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স হলে সাধারণত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়, তন্ত্রাচ্ছন্ন ভাব থাকে। মস্তিষ্কস্থূলতা দেখা দেয়, ওজন বাড়ে। শরীরে চর্বি জমে, রক্তচাপ বাড়ে, ক্ষুধা ও তৃষ্ণা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহঃ

ক. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
খ. খুব বেশি পিপাসা লাগা
গ. বেশি ক্ষুধা পাওয়া
ঘ. যথেষ্ট খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
ঙ. ক্লান্তি ও দুর্বলতা বোধ করা
চ. ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া
ছ. খোস-পাঁচড়া, ফোঁড়া প্রভৃতি চর্মরোগ দেখা দেওয়া
জ. চোখে কম দেখা।

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় উপায়ঃ

রক্তের গ্লুকোজের মাত্রার ১% পরিমাপ করে ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে হয়। সুস্থ ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৬.১ মিলি মোলের কম এবং খাবার ২ ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলি মোলের কম অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলিমোলের কম থাকে। কোনো ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় অভুক্ত অবস্থায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.০ মিলি মোল বা তার বেশি হলে এবং খাবার খাওয়ার অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলি মোল বা তার বেশি হলে অথবা রক্তের গ্লুকোজের ৬.৫%-এর বেশি হলে তাকে ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ ও তাদের পার্থক্য সমূহঃ

টাইপ-১, ২. টাইপ-২, ৩. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। ৪. অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণভিত্তিক শ্রেণী।
টাইপ-১
এই ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরি হয় না। সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সে এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতেই হয়। অন্যথায় রক্তের শর্করা অতি দ্রুত বেড়ে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই রক্তে অম্লজাতীয় বিষক্রিয়ায় অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
টাইপ-২
এই শ্রেণীর রোগীর বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ত্রিশ বছরের ওপরে হয়ে থাকে। আজকাল ত্রিশ বছরের নিচেও এ ধরনের রোগীর সংখ্যা দেখা দিচ্ছে ও দিনে দিনে বেড়ে চলছে। এদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয়। তবে, প্রয়োজনে ইনসুলিন ইনজেকশন না দিলে টাইপ-১ রোগীর মতো এদের বিষক্রিয়া হয় না। অর্থাৎ এরা ইনসুলিন নির্ভরশীল নয়। অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও নিয়মিত ব্যায়ামের সাহায্যে এদের চিকিৎসা করা সম্ভব।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসঃ

অনেক সময় গর্ভবতী অবস্থায় প্রসূতিদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। আবার প্রসবের পর ডায়াবেটিস থাকে না। এই প্রকার জটিলতাকেই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ডায়াবেটিস হলে গর্ভবতী মা ও গর্ভবতী শিশু উভয়ের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। বিপদ এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন অবস্থায় ইনসুলিনের মাধ্যমে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা আবশ্যক।

অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণভিত্তিক শ্রেণীঃ

ক. জেনেটিক কারণে ইনসুলিন তৈরি কম হওয়া।
খ. জেনেটিক কারণে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়া।
গ. অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ।
ঘ. অন্যান্য হরমোন আধিক্য
ঙ. ঔষুধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শ।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ সমূহঃ

যে কেউ যে কোনো বয়সে যেকোনো সময় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে নিম্নোক্ত শ্রেণীর ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে:
ক. যাদের বংশে বিশেষ করে বাবা-মা বা রক্ত সম্পর্কিত নিকটাত্মীয়ের ডায়াবেটিস আছে।
খ. যাদের ওজন অনেক বেশি ও যারা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের কোনো কাজ করেন না।
গ. যারা বহুদিন ধরে কর্টিসোল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেন।
ঘ. যেসব মহিলার গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ছিল আবার যেসব মহিলা ৯ পাউন্ডের বেশি ওজনের বাচ্চা প্রসব করেছেন।
ঙ. যাদের রক্তচাপ আছে এবং রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকে।

মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস কী?

অনেক সময় গর্ভধারণ করার পর ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এবং প্রসবের পর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়। তাকে মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস বলে। গর্ভবতী অবস্থায় মায়ের শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে ইনসুলিন প্রয়োজন হয়, রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখার জন্য। যদি এই ইনসুলিন তৈরিতে শরীর অক্ষম হয় তাহলে ওই গর্ভবতী মায়ের গর্ভাবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়, অর্থাৎ মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস হয়। মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিসের জন্য প্লাসেন্টাল হরমোনও দায়ী।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে কী ধরণের জটিলতা হতে পারে?

পক্ষাঘাত স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা, হৃদরোগ, পায়ে পচনশীল ক্ষত, চক্ষুরোগ, প্রস্রাবে আমিষ বের হওয়া ও পরবর্তীতে কিডনির কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া। পাতলা পায়খানা, যক্ষ্মা, মাড়ির প্রদাহ, চুলকানি, ফোঁড়া, পাঁচড়া ইত্যাদি। তাছাড়া রোগের কারণে যৌনক্ষমতা কমে যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি ওজনের শিশু জন্ম, মৃত শিশুর জন্ম, অকালে সন্তান প্রসব, জন্মের পরেই শিশুর মৃত্যু এবং নানা ধরনের জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় করণীয় কি?

ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় চারটি নিয়ম মেনে চলতে হয়-
১. খাদ্য ব্যবস্থা
২. সাধ্যমতো কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম
৩. ওষুধ
৪. ডায়াবেটিস সম্পর্কিত শিক্ষা

খাদ্য ব্যবস্থাঃ

ডায়াবেটিস হলে খাদ্যের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। খাদ্যের নিয়ম মেনে চলার প্রধান উদ্দেশ্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও স্বাস্থ্য ভালো রাখা।

খাদ্য গ্রহণের নীতিঃ

ক. শরীরের ওজন বেশি থাকলে কমানো বা কম থাকলে বাড়িয়ে স্বাভাবিক করা এবং স্বাভাবিক থাকলে সেটা বজায় রাখা।
খ. চিনি, মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দেওয়া।
গ. শর্করাবহুল খাবার কিছুটা হিসাব করে খাওয়া।
ঘ. আঁশবহুল খাবার বেশি খাওয়া।
ঙ. সম্পৃক্ত ফ্যাট কম খাওয়া এবং অসম্পৃক্ত ফ্যাট খাওয়ার অভ্যাস করা।
চ. ক্যালরিবহুল খাবার নির্দেশিত পরিমাণে খাওয়া।
ছ. নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া। জ. কোনো বেলার খাবার খাওয়া বাদ না দেওয়া।
ঝ. আজ কম, কাল বেশি এভাবে না খাওয়া।

সাধ্যমতো কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়ামঃ

রোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ব্যায়াম বা শরীরচর্চার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রম মাংসপেশির জড়তা দূর করে এবং রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। শরীর সুস্থ থাকে। ফলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বেড়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট এবং সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন হাঁটলে শরীর যথেষ্ট সুস্থ থাকবে।

সব ডায়াবেটিস রোগীকেই খাদ্য ব্যবস্থা, ব্যায়াম ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পালন করতে পারলে রোগ নিয়ন্ত্রণে এসে যায়।

শিক্ষাঃ

ডায়াবেটিস আজীবনের রোগ; সঠিক ব্যবস্থা নিলে এই রোগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই এ রোগের সুচিকিৎসার জন্য ডায়াবেটিস সম্পর্কে রোগীর যেমন শিক্ষা প্রয়োজন, তেমনি রোগীর নিকটাত্মীয়দেরও এই রোগ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার। কারণ শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

হোমিওপ্যাথি ঔষধঃ
—————————
ডায়াবেটিস হবার আগে রোগীদের দিকে লক্ষ্যকরলে বা তাদের নিকট হতে তথ্যনিয়ে দেখা যায় তাদের বা মানবদেহের Organ: Liver (যকৃত) Function বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। ফলে মানবদেহে Digest (হজম) এর কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। পরবর্তীতে তা মানবদেহে Organ: Pancreas (অর্গাশয়) বিপাকক্রিয়াতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তা পরবর্তীতে Organ: Kidney (বৃক্ষ) সহ অন্যান্য Organs যায়
বিশ্বব্যাপি পরিবর্তনশীল আবহাওয়া ও জলবায়ু, খাদ্যাভ্যাস তথা জীবনধারণে খাদ্যশস্য উৎপাদনে অতিরিক্ত-কীটনাশক-বিষ, কেমিক্যাল, সার, প্রযোগকৃত হতে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য খাবার হিসাবে সকল জনগোষ্ঠী প্রতিদিন আহার করে আসছি।

ডায়াবেটিস গবেষণায় ব্যবহৃত প্রধান হোমিওপ্যাথি ঔষধ Chelidonium Majus।
[ সমনামঃ সিলাডাইন, টেটারওট, সোয়ালোওর্ট, ক্যালেন্ডািন।
কমননামঃ সিলাডাইন।
গোত্রঃ পেপা ভেরাসি।
উৎসঃ উদ্ভিজ্জ উৎস।

ব্যবহৃত ধাপঃ তরুন ও পুরাতন রোগ।

ঔষধ সেবনকালীন বর্জনীয় খাদ্যঃ বিয়ার, ঠান্ডা পানীয়, দুধ, চর্বি, টক ]।

হোমিওপ্যাথি Chelidonium Majus ডায়াবেটিস রোগী বা যাদের ডায়াবেটিস হয়নি কিন্তু হবার সম্ভাবনা রয়েছে, সেটা বংশগত বা যে কারণই হোক তাদের প্রতিষেধক হিসাবে অন্যতম হোমিওপ্যাথি ঔষধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।
এছাড়া Natrum Sulph, Zincum Phos সহ অন্যান্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ লক্ষণ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ব্যবহার হয়।
(ডায়াবেটিস রোগীকে হোমিওপ্যাথি ঔষধ সঠিক মাত্রা ও সেবন বিধি এবং অবশ্যই শক্তিকৃত তরল ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে)।

[ উল্লেখ্যঃ বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় কোন দেশের পুস্তকে ডায়াবেটিস এর নতুন গবেষণা ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথি ঔষধ বিষয়ে ইতিপূ্বে কোন হোমিওপ্যাথি গবেষক, লেখক, চিকিৎসক এর লেখা বা তথ্য বা উল্লেখ নেই। সেখানে ডায়াবেটিস এর হবার আগে ও পরে মানবদেহের Organ গুলোর বিশৃঙ্খলা, মানবদেহের মূল লক্ষণ সমূহ চিহ্নিত না করে বা লক্ষ্য না রেখে ডায়াবেটিস হলে ঘনঘন প্রস্রাব হয়, প্রস্রাবের ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়া, পানি পিপাসা ও ক্ষুধা বেশি হয়, মিষ্টি খাবারে আগ্রহ বাড়ে এগুলো লক্ষ্য রেখেই আজ পর্যন্ত পুস্তক হোমিওপ্যাথি ঔষধঃ Argentum Nit, Cousticum, জাম এর বিচি হতে তৈরি Sezygiu jamb, তেলাকুঁচা পাঁতা হতে তৈরি Cephalan Ind সহ অারো অনেক ঔষধ লিখিত আছে। এ বিষয়ে যতগুলো দেশ-বিদেশে পুস্তকে বা বইতে ডায়াবেটিস বিষয়ে প্রচলিতঔষধ লিখিত আছে বা লেখা আছে। যা ডায়াবেটিস তেমন কোন কাজ করেনা। এগুলো নিয়ে বিশ্বব্যাপি হোমিওপ্যাথ গবেষক ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা পড়ে আছে। যা কাম্য নয়]।

ঔষধের প্রয়োগ ও সেবন বিধিঃ
——————————————
[সিনিয়র গবেষক হোমিওপ্যাথ ডা. প্রমিত কুমার মন্ডল ও গবেষক হোমিওপ্যাথ ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) এর যৌথ গবেষণাকৃত Research of Bangladesh: Theory of Homoeopathic Medicine Action and Duration. এর তত্ত্ব অনুযায়ী নিম্নরুপ হবে]।

ঔষধের ক্রিয়াকাল/সেবন বিধি
Q (মাদার টিংচার) থেকে CM পর্যন্ত শক্তির ব্যবহার

Q=(একদিন)= ২ ঘন্টা পরপর ১০ ফোঁটা করে।

১x=(একদিন)= ২ ঘন্টা পরপর ১০ ফোঁটা করে।

২x=(একদিন)= ২ ঘন্টা পরপর ১০ ফোঁটা করে।

৩x=(দুইদিন)= ৩ ঘন্টা পরপর ১০ ফোঁটা করে।

৩০x=(তিন দিন)= ৪ ঘন্টা পরপর ৫ ফোঁটা করে।

২০০x=(পাঁচ দিন)= ৬ ঘন্টা পরপর ৫ ফোঁটা করে।

[Q বা ১x বা ২x বা 3x বা 30x বা 200x সমূহ ক্রনিকের ক্ষেত্রে ৩ বার]

১m=(সাঁত দিন)= প্রতিদিন একবার ৫ ফোঁটা করে।
[বাচ্চাদের ক্ষেত্রে (১-১০) বছরের বাচ্চা একদিন পরপর ২ ফোঁটা করে]

১০m= (দশ দিন)= ২ দিন পরপর ৫ ফোঁটা করে।
[বাচ্চাদের ক্ষেত্রে (১-১০) বছরের বাচ্চা ৫ দিন পরপর ২ ফোঁটা করে]

৫০m=(বার দিন)= ২ দিন পরপর ৫ ফোঁটা করে।
[১-১০ বছরের বাচ্চা ৬ দিন পরপর ২ ফোঁটা করে]

CM=(পনের দিন)= ৩ দিন পরপর ৫ ফোঁটা করে।
[১-১০ বছরের বাচ্চা ৭ দিন পরপর ২ ফোঁটা করে]
= মোট= ৫৬ দিন।

হোমিওপ্যাথি গবেষণার সময়কালঃ
———————————————–
২০১৪খ্রি. হতে ২০১৮খ্রি. পর্যন্ত।

হোমিওপ্যাথি গবেষকঃ
——————————
১। সিনিয়র গবেষকঃ
হোমিওপ্যাথ ডা. প্রমিত কুমার মন্ডল।
[ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি)]
চিকিৎসক, লোকনাথ হোমিওপ্যাথি।
জেলা- বগুড়া, বাংলাদেশ।

২। গবেষকঃ
হোমিওপ্যাথ ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু)।
[ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি), এমএসএস (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি)]
চিকিৎসক, ডা. আব্দুস সালাম হোমিওপ্যাথি হেলথ কেয়ার,
ডাক্তার বাড়ী, উপজেলা-শেরপুর, জেলা-বগুড়া, বাংলাদেশ।

“এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও এগিয়ে যাচ্ছে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা।”

[ সরকারী বা বেসরকারীভাবে আরও গবেষণা ও সহযোগীতা এবং আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল জার্নালের জন্য প্রেরণ করা হয়েছেঃ
ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (পি-এইচ.ডি)
ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি), বিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি), এমফিল (আর্সেনিক), পি-এইচডি (ইনভারমেন্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রধান গবেষক/পরিচালক,
গবেষণা বিভাগ
বঙ্গবন্ধু হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয় (প্রস্তাবিত)
ঢাকা, বাংলাদেশ ]।

ছবিঃ সিনিয়র গবেষক হোমিওপ্যাথ ডা. প্রমিত কুমার মন্ডল ও গবেষক হোমিওপ্যাথ ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু)। বগুড়া, বাংলাদেশ।