আইন পাস ও ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্স “স্নাতক (পাস)” নির্ধারণ করতে “স্মারকপত্র” প্রদান।

আইন পাস ও ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্স “স্নাতক (পাস)” নির্ধারণ করতে “স্মারকপত্র” প্রদান।

১৯৭২খ্রি. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হাত দিয়ে আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও চালু হয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ১৯৭২খ্রি. হতে চার বছর ছয় মাস মেয়াদি ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্স। তখন দেশে অন্যান্য ডিপ্লোমা কোর্স ছিল ২/৩ বছর মেয়াদি। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ আলোকে বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ের ডিএইচএমএস কোর্সটি একাডেমিক ৫ বছর ও ইন্টার্ণশীপ ১ বছর করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় হতে সার্টিফিকেট প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ১৯৭২খ্রি. হতে চালুকৃত ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সকে “স্নাতক (পাস)” ডিগ্রি সমমান করার জন্য বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন-২০১৮ (প্রস্তাবিত) আইনের অমর্যাদাকর সংশ্লিষ্ট ধারা-উপ-ধারা সংশোধন করতে ২০মে’ ২০১৮খ্রি. হতে ৩০মে’ ২০১৮খ্রি. পর্যন্ত বাংলাদেশে ডিএইচএমএস’দের দেশব্যাপী গণদাবি’র ফলে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা-উপ-ধারা সংশোধন করতে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ বিষয়ে ৩১/০৫/২০১৮খ্রি. বোর্ড চেয়ারম্যান দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ডিএইচএমএস’দেরকে অবগত করেছে। এ পদক্ষেপের বিষয়ে বাংলাদেশের ডিএইচএমএস’রা সজাগ ও সর্তক আছে। বাংলাদেশের ডিএইচএমএস’রা বর্তমানে ঐক্যবদ্ধ। আইন সংশোধন সহ সার্বিক কার্যক্রম বা পদক্ষেপ কতটুকু হচ্ছে ও এগুচ্ছে?
প্রয়োজনে বাংলাদেশের ডিএইচএমএস’রা সকলে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও সরকারকে সহযোগীতা করতে চায়।

ডিএইচএমএস কোর্সের সমমান, উচ্চশিক্ষা-গবেষণার জন্য বোর্ডকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র নামে হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও ডিএইচএমএস কোর্সকে “স্নাতক (পাস)” সমমান প্রদানে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশের ডিএইচএমএস’দের পক্ষ হতে ডা. মো. অাব্দুস সালাম (শিপলু) গত ০৪/০২/২০১৬খ্রি. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও গত ০২/০১/২০১৭খ্রি. মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে যুক্তিসহ লিখিত পত্র প্রদান। এছাড়াও গত ০৩/০৬/২০১৮খ্রি. ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সের স্নাতক (পাস) সমমান প্রদান বিষয়ক আবেদন করে ও সঙ্গে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট গুলো চেয়ারম্যান বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এবং সচিব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ। [ বাংলাদেশের ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ‘রা স্নাতক (পাস) সমমান ছাড়া অন্যকোনো সমমান ১৯৭২খ্রি. হতে নেয়নি ও নিবেনা ]।

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে
ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সে ভর্তি হবার যোগ্যতা এসএসসি (পাস) (শিক্ষার স্তরঃ ১০ম স্তর)। কোর্সের মেয়াদ সাবেক শিক্ষানীতি আলোকে (শিক্ষার স্তরঃ ১১তম স্তর হতে ১৪তম স্তর) ১৯৭২খ্রি. হতে একাডেমিক ৪ বৎসর ও ইন্টার্ণশীপ ৬ মাস। বর্তমানে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০খ্রি. এর আলোকে (শিক্ষার স্তরঃ ১১তম স্তর হতে ১৫তম স্তর) প্রস্তাবিত একাডেমিক ৫ বৎসর ও ইন্টার্ণশীপ ১ বৎসর করা।
কোর্সের সমমান বাংলাদেশে ১৯৭২খ্রি. হতে এখনও নির্ধারণ হয়নি।
অপরদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ এর ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএ (পাস) কোর্স। (চারুকলা বিভাগ) Bachelor of Fine Arts (B.F.A). B.F.A (Pass) Course. কোর্সের সমমান Degree (Pass)/স্নাতক (পাস) ডিগ্রি। ভর্তি হবার যোগ্যতা এসএসসি (পাস) (শিক্ষার স্তরঃ ১০ম স্তর)। কোর্সের মেয়াদ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০খ্রি. (শিক্ষার স্তরঃ ১১তম স্তর হতে ১৫তম স্তর) এর আলোকে ৫ বৎসর।
[বর্তমান ৫ বৎসর মেয়াদি কোর্স। ১ম বর্ষ ও ২য় বর্ষকে বিএফএ (প্রিলিমিনারী) ও ৩য় বর্ষ, ৪র্থ বর্ষ, ৫ম বর্ষকে বিএফএ (পাস) ডিগ্রি। সমস্ত কোর্স সমাপ্ত করার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় B.F.A (Pass) সার্টিফিকেট ১টি প্রদান করে। Degree (Pass) স্নাতক (পাস) ডিগ্রি সমমান]

বাংলাদেশের ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের প্রধান ১০ দফা দাবি সমূহঃ

♣১। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন (প্রস্তাবিত) পাস করা।

♣২। সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত আইনে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র পাকিস্থান সহ অন্যান্য দেশের অনুরুপ বাংলাদেশে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সকে ১৯৭২খ্রি. হতে স্নাতক (পাস) ডিগ্রি সমমান নির্ধারণ ও কার্যকর করা।

♣৩। বর্তমান জাতীয় শিক্ষানীতি আলোকে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সকে ৫বছর একাডেমিক ও ১বছর ইন্টার্ণশীপ করা,
(শিক্ষার স্তরঃ ১১তম-১৫তম)

♣৪। ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সের উপাধি “মেডিকেল স্নাতক ডিপ্লোমা” করা।

♣৫। সময়ের প্রয়োজনে ১৯৭২খ্রি. হতে চালুকৃত ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সকৃতদের স্নাতক (পাস) সমমান সার্টিফিকেট প্রদান ও ডিএইচএমএস’দের উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার জন্য বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে (বোর্ডের অবকাঠামো ও বোর্ডের জনবল) জাতির জনকের নামে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয়” উন্নীত করা।

♣৬। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয় করতে না পারলে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্স কে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিনে অন্তভুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক (পাস) সমমান সার্টিফিকেট প্রদান করা।

♣৭। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয় করতে না পারলে বোর্ডকে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কাউন্সিল করা ও আইন প্রনয়ণ করে বোর্ড চেয়ারম্যান, বোর্ড সদস্য, বোর্ডের রেজিষ্ট্রার, বোর্ডের সহকারী রেজিষ্ট্রারকে সহ বোর্ডের সকলকে কাউন্সিলে পদায়ন করে মর্যাদা বৃদ্ধি করা।

♣৮। আইনে প্রস্তাবিত “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিল (বিএইচএমএ)” তে কর্মকর্তা নিয়োগে সহ সরকারী সকল নিয়োগে ডিএইচএমএস’দের সন্মানজনক ও আনুপাতিক নিয়োগ করা।

♣৯। বাংলাদেশের সকল সাধারণ ডাক্তারদের একক সংগঠন হিসাবে “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএইচএমএ)” নামে নামকরণ করা।
আইন পাসের পর তা তৃর্ণমূলের সকলের ভোটে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংগঠনে নির্বাচিত’রা হোমিওপ্যাথি কাউন্সিলে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে তা অবশ্যই নিশ্চিত করা।

♣১০। সরকার স্বীকৃত সকল হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ জাতীয়করণ করা ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মান এবং প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি/যোগ্যতা/বয়স/আসন/পাঠ্যক্রম/শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি নীতিমালা প্রনয়ণ করা।

ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সকৃতদের দাবি ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় গুলো বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন (প্রস্তাবিত) উল্লেখ করা এবং পাস করতে কাজ করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড শক্তিশালী Steering Committee গঠন করা।

হোমিওপ্যাথি প্রফেশনাল ডিগ্রি “ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি)” কোর্স স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৭২খ্রি. প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এর অধীনে হলেও বোর্ড ছাড়তে চায় না বা বোর্ডকে সরকারী হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয় করতে চায় না। আবার কোর্সটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে অধিভুক্ত করতে চায় না। ফলে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সের কোন সমমান বাংলাদেশে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারণ হয়নি ও কোন সমমান নেই। বিধায় সরকারী কোন কর্মসংস্থান নেই?

এগুলো বিষয়ে জনস্বার্থে পদক্ষেপ নিতে সময়ের প্রয়োজনে হোমিওপ্যাথি ক্রান্তিকাল ২০মে’ ২০১৮খ্রি. গড়ে উঠা অরাজনৈতিক পেশাজীবী ও ডিএইচএমএস’দের অধিকার আন্দোলনে সোচ্চার বাংলাদেশের একমাত্র সংগঠন “বাংলাদেশ ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদ,” বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কমিটি’র প্রধান সমন্বয়ক ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু) কর্তৃক গত ০২/০৪/২০১৯খ্রি. চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড, ঢাকা ও ০৪/০৪/২০১৯খ্রি. সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ঢাকা’কে গুরুত্বপূর্ণ স্নাতক (পাস) সমমান বিষয়ক ডকুমেন্ট/নথি সহ (৩০ পাতা) রেজিষ্ট্রার্ড “স্মারকপত্র/আবেদনপত্র” প্রদান।

স্বাধীনতার চারদশকের বঞ্চনার শিকার ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) গণের বঞ্চনার স্থায়ী অবসানে জনস্বার্থে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রধান ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সদয় মর্জি হয়।

লেখক পরিচিতি :

ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু)।
ডিএইচএমএস (রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল)
এমএসএস (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি)

প্রধান সমন্বয়ক
“বাংলাদেশ ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদ,”
কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ।

বাস ভবন : “ডাক্তার বাড়ী,” জগন্নাথ পাড়া, শেরপুর, বগুড়া-৫৮৪০, বাংলাদেশ।

(চিকিৎসক, শিক্ষক, হোমিওপ্যাথি গবেষক, হোমিওপ্যাথি সংগঠক, কলামিস্ট ও প্রাক্তন সাংবাদিক)